Labels

Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Saturday, 17 August 2024

বাৎসল্য























একটা অভিমানী চিঠি, মানুষের সাধ্য কি তার কাছে যায় ?

আরো সব অভিমানী চিঠিরাই তার সাথে দোস্তি পাতায়; 

তোমার কাছেই ওকে রেখে দিও, একটু আদর ও পাক   

দুগা’লে বিনুনি করে ইস্কুলবাসে উঠে যাক 

ওকে শিখিয়ে দিও যা কিছু শেখার ছিল মাটি-পৃথিবীর কাছে, 
ওকে নিয়ে যেও যেখানে যেটুকু মহানতা এখনো পড়ে আছে;   
ও যেন ভালবাসে - আকাশ, মানুষ, নদী, গাছপালা, বন
ও যেন ভুলে যায় উ দা সী ন তা র পাঠ্যক্রম  
 
ওকে তুমি বলে দিও একদিন, চুপি চুপি, ঘরে ডেকে,

ও দেখেনি, তবু ওকে দেখে যায় একজন, দূর থেকে;
ওকে তুমি বোলো সেই মানুষের কাছে অভিমানী চিঠি নেই কোনো
বলে দিও সে মানুষ ভালোবাসাহীন.......ক্ষমনীয়  

Saturday, 16 May 2020

আমার কিছু ব্যক্তিগত সম্পত্তি














 

 

 

প্রথমে সেইসব বরফটুকরোর প্রসঙ্গে আসা যাক;
ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় আমি ওগুলোকে পেয়েছিলাম-
বকুলপুরের মাঠে খেলতে গিয়ে বল লাগা চোটের ওপর
নরম আদরে ওগুলোকে বুলিয়ে দিয়েছিলেন
মাঠের পাশের বাড়ির নাম-না-জানা-গোলগাল-মহিলা
পরে আমি সেগুলোকে অবলীলায় বেচে দিয়েছি।


এরপর আসবে সেই সিগারেটটার কথা;
সঞ্জীবদের বাড়ির পাঁচিলটার আড়ালে, সন্তর্পণে
সদ্য গোঁফ ওঠা ঠোঁটে যেটা চেপে ধরতেই
সাইকেল থেকে লাফ দিয়ে নেমে এসে
পাশের পাড়ার গোপালকাকা,
আমাকে কান ধরে হিড়হিড় করে নিয়ে গেলেন
আমার বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে;
অবশ্য বলতে হবে সেই সিগারেট টুকরোটা বিক্রি করে
খুব বেশি টাকা পাওয়া যায়নি।


তারপর সেইসব অমোঘ জলকণা থাকবে;
এসপ্ল্যানেড থেকে মৌলালি-
বৃষ্টি পড়েছিল শুধু আমাদের উদ্দেশ্যে;
নীলামে, সরিতা আর আমার গায়ে ঝরে পড়া
বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর দাম উঠেছিল চড়চড় করে।


কিন্তু মুশকিল হল এইভাবে বেচতে বেচতে,
আমি প্রায় সবকিছু বেচে ফেলেছি।
এখন আমার কাছে পড়ে রয়েছে
শুধু বাপ ঠাকুরদার আমলের একটা হাঁসুয়া-
যদি তাতে বিস্তর জং ধরে গেছে।


(কী বলছেন? এই পেনটা? যেটা দিয়ে কবিতা লিখছি?
ও হ্যাঁ হ্যাঁ! মাফ করবেন, ওটাও পড়ে আছে বটে!
ওটাকেও হিসেবের মধ্যে ধরে নিন)।


ফলে ঠিক করেছি, এগুলোকে আমি
আর কিছুতেই বিক্রি করব না, অনেক টাকা দিলে না।
যতটা টাকা থাকলে বউকে উড়োজাহাজ, টর্পেডো কিম্বা
বুলডোজার কিনে দেওয়া যায়,
যতটা টাকা থাকলে আনন্দবাজারে ছবি বেরয়,
যতটা টাকা থাকলে শিল্পবোদ্ধা হওয়া যায়,
কিংবা যতটা টাকা থাকলে জনগণকে সেবা আর
শিশুগণকে হত্যা করা যায়-
ততটা টাকা থাকলেও কেউ এগুলোকে
আমার কাছ থেকে কিনে নিতে পারবে না।


আমি শুধু বিনিময় প্রথায় রাজি আছি!
প্রত্যেক ঘর থেকে ভেসে আসা ভাতের গন্ধের,
বা একসঙ্গে অসংখ্য নানা রংয়ের শিশুর
হাসিমুখের বিনিময়ে আমি অনায়াসে
হাঁসুয়াটাকে দিয়ে দিতে পারি।


অবশ্য পেনটাকে আমি তখনও ছেড়ে দেব না;
ব্যক্তিগত  সম্পত্তি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও না!
তখনও আমি পেনটাকে ভেতরের বুকপকেটে
যত্ন করে লুকিয়ে রেখে দেব।
ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলুপ্তির যুগে,
ওটাই হবে আমার শেষ ব্যক্তিগত সম্পত্তি।  

[বিকল্প পত্রিকায় প্রকাশিত]

ফটো সূত্রঃ https://fineartamerica.com/featured/fountain-pen-sketch-martina-fagan.html

Sunday, 10 May 2020

আমার সব পাপ



সুচরিতা,

আমার সব পাপ আজ তোমাকে দিলাম । 


যেহেতু এত বড় উপহার পৃথিবীতে 

কেউ কোনদিন দেয়নি

তাই একটু অহংকারী হও ।


আমার যত পাপ ছিল –
দুপুরবেলার নিস্তব্ধতায় অথবা 

সবুজ জামা পড়ান  

তারা সবাই আজ দল বেঁধে

আমার বাড়ির দরজা থেকে রওনা দিল , 

ওরা হাততালি দিতে দিতে হাঁটছিল রাস্তার মাঝখান দিয়ে ,

পথ অপথ মানছিল না ।

কত খানাখন্দ ডোবা পুকুর তারা লাফ দিয়ে পার হল 

ভিক্টোরিয়ার পরীকে  তারা 

একটু জোরে ঘুরিয়ে দিল,

শ্যামবাজারের ঘোড়সওয়ারকে কি তারা 

একটা স্যালুট মেরেছিল ?

এইভাবে নানা কান্ড করতে করতে ওরা  

তোমার ব্যালকনির সামনে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে ।  

 

সুচরিতা, 

আমার সব পাপ আজ গ্রহন কর । 

যেহেতু এতটা আর্দ্র উপহার  পৃথিবীতে 
কেউ কোনদিন পায়নি 
তাই একটু অহংকারী হও ।


Saturday, 1 December 2018

প্লটম্ভরের কবিতা


(প্রথম দিন)
শচীনদার কোচিং ক্লাস, জমজমাট;
(কুটীর শিল্প, কিন্তু সবচেয়ে লাভজনক !)
সন্ধ্যাকাল, ব্যগ্র হয়ে নিচ্ছি নোট,
এমন সময় প্রবেশ তোর অচানক।

কোচিং ক্লাসে সেদিন তোর প্রথম দিন,
এমন চোখ দেখেনি আমার ঠাকুরদাও,
এমন দম্ভ পৃথিবীতে লব্ধ নয়-
বাইশ জন বন্ধু ফ্ল্যাট, শচীনদাও !


আসলি আসলি আমার পাশেই বসতে হয়?
অমন করে শুধোতে হয়, "নাম কী তোর?"
আশেপাশে হাত গোটাচ্ছে তেইশ জন,
ঘাবড়ে গিয়ে বেড়িয়ে গেলো "প্ল...প্লটম্ভর"


(পরের দিন)
কেন রে তুই ভুল করে দিলি অঙ্কটায়?
কেন রে তুই সব ব্যাপারে নাক গলাস?
তোর কথা যেই একটু ভাবা, আনমনে,
ভুল হয়ে গেলো ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস!


(আজ)
আজকে সেসব দৃশ্যপট ঝাপসা খুব,
একলা বসে ভাবছে শুধু প্লটম্ভর,
ধূসর সন্ধ্যা, নীরবতা, রাস্তাঘাট
কোচিং ক্লাস, একটি মেয়ে, "নাম কী তোর?"


Tuesday, 1 September 2015

যখন দুঃখ
















 

 

 

 

যখন খুব দুঃখ আমায় পায়

(অর্থাৎ আমি হাসতে থাকি খুব )

বুঝতে পারি অপদার্থতায়

আমার মত নেই বেশি উজবুক


যেভাবে মানুষ ভেঙ্গে পড়ে ধীরে ধীরে

ঠিক তখন, সৌভাগ্যক্রমে , বলতে হয়

আমার মনে পড়ে যায় সব কথা

আমার সাম্রাজ্য , ঐশ্বর্য , পরিচয় 


ভেবে ভাল লাগে কতটা বোকা ওরা

তবুও কতটা চালাকি করে শেষে

কুটিপাটি হয় যুদ্ধ জিতেছে ভেবে

সম্রাটকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসে


আমি তখন মাথা উঁচু করে হাঁটি

পথের শিশুর গালেতে বোলাই হাত

ভিখিরিদের নিয়ে সংগঠন করি 

আমাকে দেখে তখন ওরা তো কাত                                                                                      


আমাদের




আমাদের যেসব নদীর তীরে যাওয়া হল না 

সেসব নদী অন্ধকারে উজ্বলতা ছড়ায়

যেসব পাহাড়ে তাবু ফেলার কথা ছিল

কুয়াশা তাদের ঘিরে আছে এখনো

যেসব শুকনো পাতার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যেত

সেপথ আজও খুঁজে পায়নি কেউ

অন্য একটা কবিতা লেখা যেত হয়ত

কেউ জানে না, কেউ জানে না , কেমন হত সেটা |